ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতাব্দীতে এ অঞ্চলে ইসলামের আগমণ ঘটে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে সামরিক বিজয়ের পাশাপাশি শাহ জালালের মতো সুন্নি দাঈদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় ধীরে ধীরে ইসলাম এদেশে প্রভাবশালী ধর্ম হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে মুসলিম শাসকরা মসজিদ নির্মাণ করে ইসলাম প্রচারে অবদান রাখেন। চতুর্দশ শতাব্দী থেকে এই অঞ্চল শাহী বাংলা হিসেবে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ কর্তৃক শাসিত হয় যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং আঞ্চলিক সাম্রাজ্যগুলোর উপর সামরিক আধিপত্যের সূচনা করে। ইউরোপীয়রা সেসময় এই শাহী বাংলাকে বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে ধনী দেশ বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে এই অঞ্চলটি মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে এবং মুঘল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ধনী প্রদেশ হিসাবে পরিগণিত হয়। বাংলা সুবাহ গোটা মুঘল সাম্রাজ্যের জিডিপির প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্ব জিডিপির ১২% উৎপাদন করে যা সমগ্র পশ্চিম ইউরোপের থেকেও বেশী ছিল। এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রাথমিক শিল্পায়ন যুগের সূচনা করে। এ সময় রাজধানী শহর ঢাকার জনসংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়।
স্কাউট ও গার্ল গাইড বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। বৃটিশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ১৯০৭ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং এবং ১৯১০ সালে গার্ল গাইডের ধারণা প্রবর্তন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং কার্যক্রম আরম্ভ করার আগে স্কাউটিংয়ে অংশ নিতে পারে, এমন বয়সের ছেলেমেয়েদের চাহিদা বিবেচনা করে তিনি কিছু বই প্রকাশ করেন। তার মধ্যে
স্কাউট শাখার জন্য ১৯০৮ সালে ‘স্কাউটিং ফর বয়েজ’ এবং গার্ল গাইড আন্দোলনের জন্য ‘গার্ল গাইডিং’ ও ‘দি ব্লু বার্ড বুক’ অন্যতম।
আন্তর্জাতিক স্কাউট আন্দোলনের সাথে সংগতি রেখে বাংলাদেশেও বাংলাদেশ স্কাউটস ও গার্ল গাইডের কর্মকাণ্ডের সূচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং-এর কার্যক্রম শুরু হয়। দুঃস্থ মানবতার সেবা,নৈতিক মূল্যবোধের উনড়বয়ন, সুসমন্বিত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, ধর্মীয় সহনশীলতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জনের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশও এই কার্যক্রমে গর্বিত অংশীদার হিসেবে ইতোমধ্যে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ছিলেন স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৮৫৭ সালে ইংল্যাণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। স্কাউটিং পদ্ধতিতে ইংল্যাণ্ডের বালকদের চরিত্রের বিভিনড়ব গুণাবলির উনড়বতি দেখে তিনি সারা বিশ্বে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেন। ১৯২০ সালে বিশ্ব স্কাউট সংস্থা গঠিত হয়। বিশ্ব স্কাউট সংস্থার প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যাণ্ডের রাজধানী জেনেভায় অবস্থিত। স্কাউট একটি বিশ্বজনীন অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। স্কাউট আন্দোলনের লক্ষ্যই হচ্ছে একটি স্কাউটকে চরিত্রবান করে আদর্শ মানুষে রূপান্তরিত করা। স্কাউটিং কার্যμম বালকদের আত্মনির্ভর ও সুন্দর জীবন গড়ে তোলে। ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে ঢাকায় পূর্ববঙ্গ স্কাউট সমিতি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এদেশের স্কাউট আন্দোলন এক নতুন রূপ নেয়। ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকায় দেশের স্কাউট নেতাদের এক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ১ জুন বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতিকে বিশ্ব স্কাউট কনফারেন্সে ১০৫তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন ৫ম কাউন্সিল সভায় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির নাম বদল করে ‘বাংলাদেশ স্কাউট’ রাখা হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। জেলা শহর গাজীপুরের অদূরে মৌচাকে স্কাউটের জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অবস্থিত। রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল গার্ল গাইডেরও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্কাউটের অনুরূপ মেয়েদের জন্যও আলাদা কর্মসূচি দিয়ে নাম দিলেন গাইডিং। অতপর এই আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তার বোন এগনেসকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এগনেস তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে এই আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
গাইডিং মেয়েদেরকে--
ক) ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে।
খ) সামাজিক চেতনাবোধ বৃদ্ধি করে।
গ) দায়িত্বশীল নাগরিক হবার শিক্ষা দেয়।
ঘ) সেবামূলক কাজ করার শিক্ষা দেয়।
ঙ) বিশ্বের বিভিনড়ব দেশের যুব সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে সাহায্য করে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদ গার্ল গাইড এ্যাসোসিয়েশনকে একটি জাতীয় সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করে। ১৯৭৩ সালে এই সংগঠন বিশ্ব গার্ল গাইড এ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডে গার্ল গাইডের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। গার্ল গাইড কর্মসূচি : গার্ল গাইডের আট দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা গাইডিং উপভোগ করে এবং সর্বক্ষেত্রে নিজেদেরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। কর্মসূচি :